ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস

BD REPORT
Admin User 14 Sep 2026 02:09 pm
ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস

২০২৪ সালের আজকের দিনে (৫ আগস্ট) দীর্ঘ একমাসের আন্দোলন শেষ হয়। জুলাই অভ্যুত্থানের ক্যালেন্ডারে এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘৩৬ জুলাই’। এ দিন ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে সাড়া দিয়ে হাজারো মানুষ ঢাকামুখি হয়। তীব্র আন্দোলন, লাশের মিছিল আর দেশের মানুষের আত্মত্যাগের কাছে নত হয়ে দেশত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন স্বৈরাচার শেখ হাসিনা। অবসান হয় আওয়ামী লীগের দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার।

সেদিন দুপুরের দিকে হাসিনার পালিয়েছেন এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। বিজয়ের উল্লাসে মেতে ওঠেন তারা। ঢাকার রাজপথে তখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই, চারিদিকে শুধু মানুষ আর মানুষ। গণভবন, সংসদ ভবন আর ওই চত্বরে থাকা সরকারি বাংলোগুলোতে লাখো মানুষ ভিড়। ক্ষমতার চেয়ার থেকে স্বৈরশাসককে উৎখাতের আনন্দে শেখ হাসিনার মসনদ সেই গণভবনে গিয়ে ক্ষমতার দম্ভকে চুরমার হতে নিজ চোখে দেখেন লাখো সাধারণ ছাত্র-জনতা।

সরকারি চাকরিতে কোটা বহাল রাখার প্রতিবাদে গত বছরের জুলাই মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন। ক্রমেই সেই আন্দোলন দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে। কোটা না মেধা স্লোগানে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী লীগের সমর্থকরা আন্দোলনকারীদের রক্তাক্ত করে। ১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদসহ সারাদেশে বেশ কয়েকজন নিহত হলে আন্দোলন রূপ নেয় গণআন্দোলনে।

এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের আক্রমণে বাড়তে থাকে লাশের মিছিল। আন্দোলনকারী ছাড়াও ছোট শিশু থেকে বয়োবৃদ্ধ পর্যন্ত মৃত্যুর মিছিলে যুক্ত হয়। এক পর্যায়ে কোটা আন্দোলন শত শত হত্যার বিচার দাবিতে শেখ হাসিনার পতনের দিকে প্রতিধ্বনিত হয়। জুলাইয়ের রক্তাক্ত বিস্ফোরণে হাসিনার পদত্যাগের একদফা দাবিতে গণআন্দোলন জোরদার হয়।

ছাত্র-জনতার বিজয়ের এই ঐতিহাসিক দিনটিকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। রাজনৈতিক দলগুলোও এ দিবসে নানা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। প্রথমবারের মতো দিনটি উদযাপন করছে বাংলাদেশ। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার সাধারণ ছুটিও ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাস বদলে দেয়া দিনটির স্মরণে সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে নানা আয়োজন।

Tags: