চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়েছেন চট্টগ্রাম-১১ আসনের বাসদ মনোনীত প্রার্থী আল কাদেরী জয়। তিনি বলেন, ‘জনগণের মতামত উপেক্ষা করে বন্দরের মতো কৌশলগত জাতীয় সম্পদ বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি।’
বুধবার বিকেল ৩টা থেকে পতেঙ্গার ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের মুসলিমাবাদ, চরপাড়া, আকমল আলী, কসাইগলি, জেলেপাড়া, সাগরপাড় ও কাটগড় এলাকায় মই প্রতীকের সমর্থনে গণসংযোগ ও পথসভায় এসব কথা বলেন আল কাদেরী জয়। গণসংযোগকালে তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের সমস্যা ও মতামত শোনেন।
পথসভায় আল কাদেরী জয় বলেন, ‘একদিকে মানুষ ভোটের উৎসবের অপেক্ষায়, অন্যদিকে সরকার গোপনে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তির পথে এগোচ্ছে। এটি গণ-আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে গিয়ে দেশ পরিচালনার শামিল। তিনি জানান, বাসদসহ বাম প্রগতিশীল দেশপ্রেমিক শক্তি দীর্ঘদিন ধরে বন্দর রক্ষার আন্দোলন করে আসছে। সরকার এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’
গণসংযোগে উঠে আসা স্থানীয় সমস্যার কথাও তুলে ধরেন তিনি। আল কাদেরী জয় বলেন, ‘পতেঙ্গা অঞ্চলে সুপেয় পানির তীব্র সংকট রয়েছে এবং ১০ থেকে ১৫ লাখ মানুষের জন্য সরকারি কোনো মেডিকেল কলেজ বা হাসপাতাল নেই। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরোলেও মানুষের মৌলিক অধিকার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।’ সংসদকে কোটিপতিদের ক্লাবে পরিণত করার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে গরিব, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে সংসদকে প্রতিষ্ঠা করতেই মই প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন তারা।
পথসভায় বাসদ চট্টগ্রাম জেলা সদস্য আকরাম হোসেন, নুরুল হুদা নিপু, আহমদ জসিম, ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদের সদস্য মো. মাসুদ, রুকন হাসান, মো. হুমায়ুন কবির, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নগর সভাপতি মিরাজ উদ্দিন, উম্মে হাবিবা শ্রাবণীসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। গণসংযোগকালে স্থানীয় জনগণ আল কাদেরী জয়ের প্রতি সমর্থন জানান।