কতটা অংশগ্রহণমূলক হতে যাচ্ছে নির্বাচন

BD REPORT
ষড়ৈশ্বর্য মুহম্মদ 16 May 2026 01:05 am
কতটা অংশগ্রহণমূলক হতে যাচ্ছে নির্বাচন

সংগৃহীত ছবি

যেকোনো নির্বাচনে পূর্বনির্ধারিত কিছু শর্ত থাকে। আমাদের নির্বাচনের সেই শর্তগুলো আছে সংবিধানে, নির্বাচন কমিশনে, সংবিধান সংস্কার কমিশনে, ঐকমত্য কমিশনে, নির্বাচনি আচরণবিধিতে এবং গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশে। এগুলো প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচনের স্থায়ী পূর্বশর্ত নির্ধারণ করছে। এছাড়া আছে কিছু পরোক্ষ পূর্বশর্ত এবং ফলাফল পরবর্তী পূর্বশর্ত। কোনো নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে কি না তা এসব প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ পূর্বশর্তই খানিকটা ঠিক করে দেয়।

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন যতটা না প্রশাসনিক আচার, তারচেয়ে একটা রাজনৈতিক প্রক্রিয়া। নির্বাচনে ভোটের ব্যাপার তো থাকবেই, কিন্তু ভোটের মাধ্যমেই কেবল ক্ষমতাকে মাপা হবে না। সর্বস্তরের জনগণের স্বাধীন অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে যে নির্বাচন বৈধতা অর্জন করে সেটাকে আমরা বলব অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। নির্বাচনের শর্ত ও পরিস্থিতি ‘সর্বস্তরের জনগণের স্বাধীন অংশগ্রহণ’কে ব্যাহত করছে কি না তা দিয়েই বিচার করা হয়, নির্বাচন সর্বস্তরের জনগণের স্বাধীন অংশগ্রহণ ও মতপ্রকাশ, নাকি ক্ষমতার পালাবদলের আনুষ্ঠানিকতা মাত্র।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘না’ ভোটের সুযোগ না থাকায় ভোটারদের অনেকেই নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ হারাচ্ছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ‘না’ ভোটের হার হয়তো আমাদের রাজনৈতিক দল এবং নির্বাচন ব্যবস্থার শর্ত নির্ধারকদের মনে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল। এবার নির্বাচনের আগে কিছু নীতিবিধি সংশোধন হলেও অন্তত এক্ষেত্রে বহাল রাখা হয়েছে পুরোনো ব্যবস্থাই।

এই নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটে ভোট শুধু প্রবাসী, নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি, আইনি হেফাজতে থাকা ভোটার, নিজ ভোটার এলাকার বাইরে অবস্থানকারীদের জন্য। এই সীমিত সুযোগ নির্বাচনের অংশগ্রহণমূলকতাকে সীমিত করেছে। অনেক সরকারি কর্মচারী পোস্টাল ব্যালটের ভোটের ব্যাপারে আশ্বস্ত হতে পারছেন না। কোনো প্রার্থীকে কিংবা ‘না’তে ভোট দিলে কিংবা ভোটদানে বিরত থাকলে সেটা প্রকাশ পেয়ে যাবে কি না এবং পরে তাদের পেশাগত জীবনে এর কোনো প্রভাব পড়বে কি না সেই দুশ্চিন্তা তারা কাটিয়ে উঠতে পারেননি।

এবারের নির্বাচনেও স্বতন্ত্র প্রার্থিতার সুযোগ সীমিত রাখা হয়েছে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর ও সম্মতির শর্তের মাধ্যমে। যে কারণে এবারও স্বতন্ত্র প্রার্থী আগের ১৯৯১ এবং ২০০১ সালের গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের তুলনায় কম। প্রভাবশালী না হলে কোনো ভোটার কি তার গোপনীয়তা লঙ্ঘন করে কোনো একজন প্রার্থীর পক্ষে নিজের সমর্থন প্রকাশ্যে ঘোষণার ঝুঁকি নিতে পারেন, বাংলাদেশের বাস্তবতায়? স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এ ব্যাপারে আওয়াজও তুলেছিলেন। এই ধরনের শর্ত তো ভোটের গোপনীয়তার শর্তের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।

স্থগিতাদেশের কারণে এবার ভোটে থাকার সুযোগ নেই আওয়ামী লীগের, তবে তাদের ভোট দেওয়ার মতো লোকজন এখনও আছে। এই ভোটারদের জন্য বিকল্প বেছে নেওয়া কিংবা ভোট না দেওয়ার একটি বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে। ভোটারদের পছন্দের বিবেচনায় এটি অংশগ্রহণমূলকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তো বটেই। একটা ভোটে আপনি অপরাধী সাব্যস্ত ব্যক্তির, অর্থাৎ, বিচারে প্রমাণিত দোষী এবং কারাভোগকারী কোনো দণ্ডিত আসামির ভোটদানের সুযোগ রাখছেন, কিন্তু ভোটদাতা কোনো দলের সমর্থককে, যারা দোষী প্রমাণিত নয়, যারা অভিযুক্ত নয়, যাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই, তেমন ভোটারদেরও উপস্থিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি রাখছেন না, এটা কতটা যুক্তিযুক্ত?

প্রত্যক্ষ পূর্বশর্তের এগুলো কিছু নমুনা, এর বাইরে এবারও নির্বাচনে আছে বরাবরের মতো কিছু পরোক্ষ পূর্বশর্ত। এই পরোক্ষ পূর্বশর্ত নির্ধারণ করছে সরকার, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, নির্বাচন কমিশনের লোকজন এবং প্রার্থী, দল ও ভোটাররা। তারা প্রত্যেকেই নির্বাচনি আইন ও নীতির পূর্বশর্ত দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হলেও তাদের পরোক্ষ, গুপ্ত, সুপ্ত ও নেপথ্য কর্মকাণ্ড সেই আইনের ধরাছোঁয়ার বাইরে। গত দেড় বছরের মব, নৈরাজ্য, দমন, পীড়নের মাধ্যমে যে ভয় ও আতঙ্কের পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে এবং যে ধরনের প্রচার ও প্রোপাগান্ডা হয়েছে তা জনগণের ভোটের মানসিকতাকে ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। ভোট ঘিরে সরকারের পক্ষ থেকে ১০ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যে জরুরি স্বাস্থ্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তা সতর্কতার বদলে ভোটারদের মনে ভয় ধরিয়ে দিতে পারে। এসবই পরোক্ষভাবে ভোটের ওপর প্রভাব ফেলে অংশগ্রহণমূলকতাকে ক্ষুণ্ণ করেছে। স্বাধীনতার পর থেকে যে জামায়াতে ইসলামী সবসময়ই পেছনের সারির দল হিসেবে থেকেছে ভোটের মাঠে, এমনকি জুলাই অভ্যুত্থানেও যারা গুপ্ত ও সুপ্তই ছিল, তারা গত দেড় বছরে অন্যতম প্রধান দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ভয়, প্রচার, প্রোপাগাণ্ডা আর নানা নেপথ্য তেলেসমাতির জোরেই। জুলাই আন্দোলনের পরে এটা প্রমাণিত হয়েছে যে বাংলাদেশে চাইলে পেছনের সারির একটি দলকেও সামনের সারিতে নিয়ে আসা যায়। ব্যাপারটা এর আগে জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য দলের ক্ষেত্রেও হয়েছিল।

এই নির্বাচনে দলগুলোর দিক থেকে দৃশ্যত বিপুল অংশগ্রহণ আছে। ৬০টির মতো রাজনৈতিক দলের মধ্যে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না বা নিতে পারছে না আওয়ামী লীগসহ ৮/৯টি দল। নির্বাচনে অনেক নামসর্বস্ব দলের অংশগ্রহণ আছে, যেগুলোর অধিকাংশের মূল কাজ হচ্ছে জনগণের ভোটের প্রতিনিধিত্ব না করে বরং জনগণের ভোটের প্রতিনিধিত্বকারী দলের ভাড়া খাটা, তাদের সঙ্গে দরকষাকষি করা, তাদের প্রক্সি বা বদলি হিসেবে কাজ করা এবং নির্বাচনি খেলায় পেছনের খেলোয়াড়দের হয়ে সামনে থাকা। তারপরও তাদের বিপুল অংশগ্রহণ বিভিন্ন দেশ এবং নির্বাচন সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে এই নির্বাচনকে দৃশ্যত অংশগ্রহণমূলক করে তুলেছে।

এই নির্বাচনে নারী প্রার্থী দৃশ্যত আগের তুলনায় অনেক বেশি। আমাদের অপেক্ষাকৃত গ্রহণযোগ্য নির্বাচনগুলোর মধ্যে ১৯৯১-এ নারী প্রার্থী ৩৭, ২০০১-এ ৩৮ এবং ২০০৮-এ ৫৯। এবার নারী প্রার্থী ৮৫ জন। তবে এই বেশির মধ্যে আবার কমও আছে। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর অধিকাংশই (জামায়াতসহ ৩০টি দল) কোনো নারী প্রার্থী রাখেনি। জামায়াতের আমির নারী নেতৃত্ব প্রসঙ্গে রীতিমতন সংবিধানবিরোধী বক্তব্যই দিয়ে রেখেছেন। নির্বাচনে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা দলের মধ্যে বিএনপিও নারীপ্রার্থী রেখেছে মাত্র ১০ জন, অর্থাৎ তাদের মোট প্রার্থীর মাত্র ৩ শতাংশ। গত দেড় বছরে কিছু দলের নারীবিদ্বেষী প্রচার-প্রচারণা এবার এত বেশি ছিল যে নারীদের মোটামুটি সাবহিউম্যানের পর্যায়ে নামিয়ে আনা হয়েছে। এই ধরনের বিদ্বেষ উসকানো উন্মাদনা এবং উন্মাদনার ভোট কতটা গ্রহণযোগ্য?

অধিকাংশ দলই এই নির্বাচনে আদিবাসী ও সংখ্যালঘুদের প্রার্থী করেনি। বড় দলগুলো এক্ষেত্রে বেশি পিছিয়ে। এবারে সংখ্যালঘু প্রার্থী ৭৯ জন। এর মধ্যে আদিবাসী প্রার্থী সম্ভবত জনা ১৫। তৃতীয় লিঙ্গের একমাত্র প্রার্থীটিও নির্বাচন থেকে সরিয়ে দাঁড়িয়েছেন। আদিবাসী ও সংখ্যালঘু প্রার্থীরা অধিকাংশই ছোট ছোট দলের। নির্বাচনে আদিবাসী ও সংখ্যালঘুদের অংশগ্রহণে দৃশ্যত কোনো বাধা নেই। তবে ময়মনসিংহের ভালুকায় সংখ্যালঘু দীপু চন্দ্র দাসকে পুড়িয়ে মারা, সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন এবং বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাগুলোর বীভৎসতম এবং ভয়াবহতম স্মৃতি আছে। এই স্মৃতি নির্বাচনের পরিবেশকে সন্দেহ করার এবং ভয় পাওয়ার কারণ তৈরি করেছে। যে কারণে তাদের অংশগ্রহণকে স্বতঃস্ফূর্ত বলা যাচ্ছে না।

নির্বাচন তখনই বিশ্বাসযোগ্যভাবে অংশগ্রহণমূলক হয় যখন ভোটার বা প্রার্থীরা রাষ্ট্র বা নির্বাচন কমিশনের একক বিচারের আওতায় থাকে না। দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক, সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিক এবং নাগরিক সংগঠনগুলোর নজরদারির সুযোগ অবারিত থাকে। এবারের নির্বাচনে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার বরমপুর গ্রামে নিজের বাসার একটি কক্ষকে বেসরকারি সংস্থা বা এনজিও ‘পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট (পাশা)’-এর কার্যালয় বানিয়ে সৈয়দ হুমায়ুন কবীর নিজেই ১০ হাজারের বেশি পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন। পরে অবশ্য তাদের পর্যবেক্ষক নিয়োগ বাতিলও করা হয়েছে।

নির্বাচনে দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের বিরাট বহর থাকছে। ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনেও তেমন ছিল। তাদের একটা বড় অংশ ওই নির্বাচনের পক্ষে সাফাইও গেয়েছিল। এবারের পর্যবেক্ষকদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। তাদের মতে, বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের থাকা-খাওয়ার খরচ বহনের নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্ত ‘অপরিণামদর্শী, বৈষম্যমূলক’ এবং ‘নিরপেক্ষ ও স্বাধীন নির্বাচন পর্যবেক্ষণের মৌলিক নীতির পরিপন্থী’। এ থেকেই বোঝা যাচ্ছে পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা কেমন হয় এবং কেন হয় আর তা নির্বাচনের অংশগ্রহণমূলকতাকে কতটা নিশ্চিত করে।

আমাদের সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের অধিকাংশই যেকোনো সরকারের সাঁজোয়া মাধ্যম। জুলাই আন্দোলনের পরে তারা পক্ষ বদল করেছে মাত্র, চরিত্র ও বৈশিষ্ট্য আগের মতোই আছে। নজরদারির ব্যাপারে তাদের কাছ থেকেও খুব বড় ভরসার জায়গা নেই। এর মধ্যে আবার ‘বাংলাদেশ টাইমস’ নামের একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের ২১ জন সাংবাদিককে অফিস থেকে উঠিয়ে নিয়ে পরে আবার ছেড়ে দেওয়ার মতো ঘটনা ভয়ের বাড়তি পরিস্থিতি তো তৈরি করেই।

নির্বাচনে কিছু ভবিষ্যৎ পূর্বশর্তও আরোপ করা হয়েছে। বিশেষ করে গণভোটের গ্যাড়াকলের মাধ্যমে। এর মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোট একটা বিরাট জটিলতা নিয়ে হাজির হয়েছে ভোটারদের সামনে। সরকার নিজেও এই জটিলতার ফাঁদে পড়েছে। তারা প্রথমে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাতে সরকারি কর্মচারীদের উৎসাহিত করলেও পরে আবার সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে। ততদিনে অবশ্য সরকারের অবস্থান সংশয় ও প্রশ্নের জন্ম দিয়ে দিয়েছে।

নির্বাচনের আরো দুটি ভবিষ্যৎ পূর্বশর্ত গণপরিষদ ও উচ্চকক্ষ। আমাদের প্রস্তাবিত উচ্চকক্ষ নিম্নকক্ষেরই একটা সম্প্রসারিত রূপ হতে চলেছে। নির্বাচনের অংশগ্রহণমূলকতার ক্ষেত্রে এটাও একটা বড় প্রশ্ন জারি রাখছে।

নির্বাচনের ফলাফল সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়াটা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের চূড়ান্ত পরীক্ষা। এটাই এখন আমাদের ১২ ফেব্রুয়ারি দেখার অপেক্ষা। যদিও সে অপেক্ষা আরো দীর্ঘায়িত হতে পারে, কেননা, যে কথা নির্বাচন কমিশন বললে তবুও মানায়, সে কথা আমাদের প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব আগাম বলে রেখেছেন, এবারের নির্বাচনের ফলাফল পেতে কিছু দেরিও হতে পারে।

নির্বাচনের ফলাফলের পরে সংসদ গঠিত হবে নাকি গণপরিষদ সে ব্যাপারেও কিছু পূর্বাভাস ও ধোঁয়াশা আছে। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আলী রিয়াজ আগেই বলে রেখেছেন, ‘নির্বাচনের পর সংসদ সদস্যরা ১৮০ দিন গণপরিষদ হিসেবে কাজ করবেন।’

একটি দেশের নাগরিক কেবল ভোটার নন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে সে প্রতিযোগিতার শর্ত নির্ধারণকারী একটা রাজনৈতিক সত্তা। এসব কথা ব্রিটিশ রাজনীতি-তাত্ত্বিক ক্যারল পেটম্যান থেকে আলী রিয়াজসহ অনেকেই বলেন। সোজা কথায়, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন মানে সংখ্যার জয় নয়, গণসম্মতির মাধ্যমে ক্ষমতার ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা। আমরা যে নির্বাচন দেখছি—সার্বিক পরিস্থিতি এবং সরকার ও নির্বাচন কমিশনের দিক থেকে সার্বিক ব্যবস্থা—সেসবের আলোকে আপনারা বিচার করুন, দেখবেন, এই নির্বাচনকে আপনারও মনে হবে আগের অনেক নির্বাচনের চেয়ে বরং একটু বেশিই নির্বাচিত নির্বাচন।

এটা যে শুধু আমাদের এই নির্বাচনের সমস্যা ও সংকট তা নয়, আগেও এমনই ছিল। দেখার বিষয় হলো, এসব সমস্যা ও সংকটের ওপর দাঁড়িয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশন কতটা গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন উপহার দিতে পারে।