সেকেন্ড রিপাবলিকের উত্থান-পতন

BD REPORT
Admin User 16 May 2026 05:05 pm
সেকেন্ড রিপাবলিকের উত্থান-পতন

ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে ফ্রান্সে প্রজাতন্ত্রের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট ও সর্বজনীন সংজ্ঞা ছিল না। রাজতন্ত্রের পর প্রতিষ্ঠিত হওয়া প্রথম প্রজাতন্ত্রের স্মৃতি জীবিত থাকলেও প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে ঐকমত্য ছিল না।

ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে ফ্রান্সে প্রজাতন্ত্রের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট ও সর্বজনীন সংজ্ঞা ছিল না। রাজতন্ত্রের পর প্রতিষ্ঠিত হওয়া প্রথম প্রজাতন্ত্রের স্মৃতি জীবিত থাকলেও প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে ঐকমত্য ছিল না। এদিক থেকে ১৮৪৮ সালের বিপ্লব ফ্রান্সের প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে বড় বাঁক। মাত্র চার বছর টিকে থাকলেও এ প্রজাতন্ত্রের প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী।

ওয়াটারলুর যুদ্ধে নেপোলিয়ন বোনাপার্টের পতনের মধ্য দিয়ে ফ্রান্সে আবার প্রজাতন্ত্র চালু হয়। নেপোলিয়ন চেয়েছিলেন উত্তরাধিকার হিসেবে মসনদে বসবেন পুত্র দ্বিতীয় নেপোলিয়ন। প্রাথমিকভাবে পূরণ হয়েছিল সে ইচ্ছা। কিন্তু মিত্ররা তার ক্ষমতার প্রতি অস্বীকৃতি জানায়। অষ্টাদশ লুইয়ের মাধ্যমে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয় বুরবো সাম্রাজ্য। দ্বিতীয় নেপোলিয়ন বাকি জীবন ভিয়েনায় বসবাস করে ১৯৩২ সালে মারা যান। সমীকরণ অনুসারে নেপোলিয়ন বংশের পরবর্তী প্রতিনিধি হিসেবে আসে লুই-নেপোলিয়নের নাম। লুই-নেপোলিয়ন ছিলেন প্রথম নেপোলিয়নের ভাতিজা। তিনি তখনো বোনাপার্ট রাজবংশের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারে সচেষ্ট। দ্বিতীয় নেপোলিয়নের মৃত্যুর সময় লুই-নেপোলিয়ন বোনাপার্টপন্থীদের সমবেত করার চেষ্টা করেন। ১৮৩৬ সালের ৩০ অক্টোবর তিনি স্ট্রাসবার্গ শহর থেকে প্যারিসের দিকে যাত্রা করেন। সে সময় তিনি বিদ্যমান শাসনের বিরুদ্ধে বিরোধিতা শুরু করেন। কিন্তু সে প্রচেষ্টা দ্রুত ব্যর্থ হয় এবং রাজা তখন লুই-নেপোলিয়নকে নির্বাসনে পাঠান। লুই-নেপোলিয়ন লন্ডনে থেকে তার রাজনৈতিক কার্যকলাপ চালিয়ে যান। প্রস্তুতি নেন অভ্যুত্থানের। ১৮৪০ সালে চালানো সে প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়, তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। ১৮৪৬ সালে তিনি দুর্গ থেকে পালাতে সক্ষম হন এবং গ্রেট ব্রিটেনে ফিরে আসেন।

১৮৪৮ সালে ফ্রান্সে বিপ্লব ঘটে। রাজা লুই-ফিলিপের পদত্যাগের পর ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৮৪৮ সালে ফ্রান্সে দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করা হয়। পরবর্তী সময়ে অনুষ্ঠিত অ্যাসেম্বলি নির্বাচনে তিনটি দল উঠে আসে। প্রথমটি মধ্যপন্থী রিপাবলিকান, দ্বিতীয়টি রাজতন্ত্রবাদী ও তৃতীয়টি সমাজতন্ত্রী। ১৮৪৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি বিপ্লব সফল হয়। সাবেক চেম্বারের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত একটি অস্থায়ী সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। প্রজাতন্ত্র গঠিত হলেও রিপাবলিকানরা তখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক কর্মসূচি তৈরি করেনি। ত্রিশ ও চল্লিশের দশকে দুটি প্রধান দাবি তাদের ঐক্যবদ্ধ করেছিল। প্রথম দাবি সমস্ত পুরুষ নাগরিকের ভোটাধিকার সম্প্রসারণ। দ্বিতীয়টি সংগঠনের স্বাধীনতা, বিষয়টিকে শ্রমিকদের মুক্তির একটি উপায় হিসেবে বিবেচনা করা হতে থাকে তখন।

বিপ্লবের পর ১৮৪৮ সালেই অস্থায়ী সরকার প্রথম ঘোষণা করে প্রজাতন্ত্র জনগণের দ্বারা অনুমোদনের পর ঘোষণা করা হবে। অনুমোদন কীভাবে হবে তা স্পষ্ট করে জানানো হয়। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একটি জাতীয় পরিষদ আহ্বান করার কথাও জানানো হয়। ৫ মার্চ একটি ডিক্রি সাধারণ ভোটাধিকারের মাধ্যমে একটি গণপরিষদ নির্বাচনের ঘোষণা দেয়।

নতুন প্রজাতন্ত্রের প্রথম কয়েক মাসে একটি জাতীয় গণপরিষদ গঠনের আহ্বান সাধারণ দাবিতে পরিণত হয়। অস্থায়ী সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের উদ্দেশে বলা হয়, ‘আপনারা জাতির জীবনের সবচেয়ে মহান কাজটি সম্পন্ন করতে যাচ্ছেন। আপনারা দেশের প্রতিনিধিদের নির্বাচন করবেন। শুধু একটি সরকার নয়, একটি সামাজিক শক্তি, একটি সম্পূর্ণ সংবিধান। আপনারা প্রজাতন্ত্র সংগঠিত করতে যাচ্ছেন।’

এ সময় ব্যাপক নির্বাচনী অংশগ্রহণের পাশাপাশি অন্যান্য ধরনের জনগণের অংশগ্রহণও লক্ষ করা যায়। প্রথমত, গণতন্ত্রায়িত জাতীয় গার্ডে ব্যাপক অন্তর্ভুক্তি ঘটে, যা এখন সব পুরুষ নাগরিকের জন্য উন্মুক্ত। প্যারিসে মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সদস্য সংখ্যা ৬০ হাজার থেকে বেড়ে ১ লাখ ৯০ হাজার জনে পৌঁছে যায়। দ্বিতীয়ত, প্রেসের স্বাধীনতার ফলে শত শত সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়। তৃতীয়ত, শত শত ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়। প্যারিসে প্রতিদিন রাতে হাজার হাজার নাগরিক একত্র হয়ে প্রজাতন্ত্রের নীতি, অস্থায়ী সরকারের নেয়া পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করতে থাকে। জাতীয় গণপরিষদ ও জাতীয় গার্ড নেতৃত্বের প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা করত। এ বৈচিত্র্যময় নাগরিক অংশগ্রহণের সংযোগ একটি গণতান্ত্রিক ধারা সৃষ্টি করে। বিপ্লবী প্রতিষ্ঠানগুলোয় নাগরিকদের ব্যাপক প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ রাজনৈতিক উদ্ভাবনকে জাগ্রত করে রেখেছিল।

৫ মার্চের সাধারণ ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার ডিক্রি জারি হওয়ার পর বিপ্লবী অগুস্ত ব্লাঁকির নেতৃত্বাধীন দল নির্বাচনের তারিখ পেছানোর দাবি জানায়। তাদের দাবি ছিল, দেশের অধিকাংশ অংশ এখনো আর্স্টোক্রেসি, রক্ষণশীল বুর্জোয়া ও ধর্মীয় নেতাদের দ্বারা শাসিত। প্রজাতন্ত্রবাদী ধারণাগুলো আরো বিস্তার করার জন্য সময় প্রয়োজন। অস্থায়ী সরকার দাবি উপেক্ষা করে, ফলে বেশ কয়েকটি ক্লাব ও শ্রমিকদের গিল্ড ১৭ মার্চ প্রতিবাদে অংশ নেয়। তবে সরকারের বেশির ভাগ অংশ নির্বাচনের জন্য দ্রুত তারিখ নির্ধারণে জোর দেয়।

নতুন নির্বাচিত গণপরিষদের অধিবেশন শুরু হয় ৪ মে থেকে। রাজতন্ত্রের অনেক সাবেক সমর্থক এবং খুব কমসংখ্যক সমাজতান্ত্রিক ও উগ্র রিপাবলিকান নির্বাচিত হয়েছিলেন। ৪-১২ মে পর্যন্ত পরিষদ অস্থায়ী সরকারের প্রতিবেদন শোনে, নির্বাচনের বৈধতা যাচাই করে এবং নিজের অভ্যন্তরীণ নিয়মাবলি নিয়ে আলোচনা করে। ১২ মে তারা একটি সংবিধানের প্রথম খসড়া লেখার জন্য ১৮ সদস্যের কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়, যা কয়েকদিন পরে নির্বাচিত হবে। এ পর্যায়ে ভবিষ্যৎ সংবিধানে নাগরিকদের ভূমিকা এখনো অস্পষ্ট। এপ্রিল থেকে ভ্রাতৃত্বের মনোভাব কমতে থাকে। অনেক ক্লাব ও সংবাদপত্র বন্ধ হয়ে যায় ১৬ এপ্রিলের শ্রমিকদের বিক্ষোভের ব্যর্থতার পর। নাগরিকদের সরাসরি অংশগ্রহণ তখনো স্পষ্টভাবে অবৈধ হয়নি। কিন্তু ১৫ মে পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে পরিবর্তন হয়। ক্লাবগুলো পোল্যান্ডের পক্ষে একটি বিক্ষোভ করে, যা জাতীয় সমিতিতে অনুপ্রবেশে পরিণত হয়। এরপর অনেক ক্লাব নেতা গ্রেফতার হন, কমিশন বন্ধ করা হয়, জাতীয় গার্ডের কমান্ডার, যিনি বিক্ষোভকারীদের সমিতিতে প্রবেশ করতে বাধা দেননি, তাকে গ্রেফতার করা হয়, বিপ্লবী পুলিশপ্রধানকে অপসারণ করা হয় ইত্যাদি।

সংবিধান নিয়ে আলোচনা শুরু হয় জুনের পর। ১৮৪৮ সালের ২৪ জুলাই থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত সংবিধান কমিটি খসড়া নিয়ে একাধিক সভা অনুষ্ঠিত করে। সংবিধানের দ্বিতীয় খসড়া প্রস্তাবে জনগণের অধিকার ঘোষণা করা হয়। সেপ্টেম্বর-নভেম্বরে খসড়া নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনা হয়। সমাবেশের স্বাধীনতা সীমিত করা হয়, সীমিত হয় সংবাদপত্রের স্বাধীনতা; প্যারিসে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়।

তবে রক্ষণশীল ও মধ্যপন্থী রিপাবলিকানরা ভয় পেত জনগণের বিশেষ ধরনের হস্তক্ষেপকে। যেন তারা প্রকাশ্যে রাজনৈতিক বিষয়গুলোয় অংশগ্রহণের চেষ্টা করতে পারে। ১৮৪৮ সালের সংবিধান বিশ্লেষণ করে কার্ল মার্ক্স সফলভাবে দেখিয়েছিলেন যে সেখানকার বিমূর্ত ধারণাগুলোর মাধ্যমে প্রত্যেকটি অধিকার সীমিত করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, ১৮ সেপ্টেম্বর আলোচনা করা সংবিধানের আট নম্বর অনুচ্ছেদ, জনগণের সমিতি গঠনের স্বাধীনতা, অভিব্যক্তির স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করার অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়, কিন্তু জননিরাপত্তা নামক অজ্ঞাত নীতির মাধ্যমে অধিকারগুলোকে সীমাবদ্ধ করা হয়।

যদিও সর্বজনীন ভোটাধিকার ফেব্রুয়ারি বিপ্লব দ্বারা আনা প্রধান পরিবর্তন হিসেবে অনেকেই মনে করতেন; কিন্তু এটি সাধারণ সর্বজনীন ভোটাধিকার ছিল না। ১৮৫০ সালের আইনে পুরুষ নাগরিকদের এক-তৃতীয়াংশের ভোটাধিকার বাদ পড়ে; যা থেকে প্রমাণিত হয় ১৮৪৮ সালের সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় সর্বজনীন ভোটাধিকার আপত্তিকর সমঝোতা ছিল। অধিকাংশ প্রজাতন্ত্রবাদী রক্ষণশীলদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি সংবিধান গ্রহণ করেছিল, তবে নাগরিকদের সরাসরি অংশগ্রহণে কোনো স্থান রাখেনি। এ সিদ্ধান্ত ফ্রান্সে দুটি আলাদা প্রজাতন্ত্রবাদী ঐতিহ্য জন্ম দেয়, যা প্রজাতন্ত্রবাদের ধারণাকে নাগরিকদের অংশগ্রহণমূলক ধারণা থেকে বিচ্ছিন্ন।

এ প্রেক্ষাপটে ১০ ডিসেম্বর রাজতন্ত্রীদের সমর্থনে প্রেসিডেন্ট হিসেবে আসীন হন লুই-নেপোলিয়ন। তিনি বসবাস করতে শুরু করেন প্যালেস দ্য লা এলিসিতে। রক্ষণশীল পরিষদ ও সরকার গঠিত হওয়ার পর ফ্রান্সের দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র পরিণত হয় রাজতন্ত্রবাদী এবং প্রজাতন্ত্রবাদীদের মধ্যে যুদ্ধক্ষেত্রে। রাজতন্ত্রবাদীরা পুনরায় রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছিল। প্রজাতন্ত্রবাদীরা ছিল সমতাভিত্তিক ও সামাজিক নীতি গ্রহণের পক্ষে। প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর লুই-নেপোলিয়ন বোনাপার্ট আইনসভার রক্ষণশীলদের প্রতিক্রিয়াশীল নীতিগুলো বাস্তবায়ন করতে দেন। বিশেষ করে সর্বজনীন ভোটাধিকারের ‍সুযোগ কমিয়ে আনা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সীমিতকরণ করা হয়। এ ধরনের অজনপ্রিয় পদক্ষেপগুলোর পাশাপাশি তিনি নিজেকে সর্বজনীন ভোটাধিকারের সমর্থক এবং সাধারণ শ্রমিক ও ধর্মের রক্ষক হিসেবে উপস্থাপন করতে থাকেন। ১৮৫২ সালে নির্বাচন হওয়ার কথা। নির্বাচনে যেন তার জয় নিশ্চিত হয়, এজন্য ২ ডিসেম্বর ১৮৫১ সালে লুই-নেপোলিয়ন জাতীয় অ্যাসেম্বলি ভেঙে দেন। পরিষদ ভেঙে দেয়ার অর্থ ছিল সরাসরি সংবিধান লঙ্ঘন। ২১ ডিসেম্বর নতুন সরকারি নীতিমালার সমর্থনে বলা হয়, নির্বাহী ক্ষমতা একজন নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে প্রদান করা হবে। প্রেসিডেন্ট ১০ বছরের জন্য শাসন করবেন। শুধু তিনিই আইন প্রণয়নের প্রস্তাব করতে পারবেন এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়োগের ক্ষমতা থাকবে তার হাতে। তারা প্রেসিডেন্টের কাছে দায়বদ্ধ থাকবেন। এ বিষয়ে একটা গণভোট আয়োজন করা হয়। সেখানে প্রায় ৭৫ লাখ ভোট পড়ে তার পক্ষে। বিপক্ষে ভোট পড়ে সাড়ে ছয় লাখ। ১৮৫২ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত আইনসভা নির্বাচনে নতুন সরকারেরই জয় হয়।

২১ নভেম্বরের আরেকটি গণভোট হয়। শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটে আমূল। ২ ডিসেম্বর ১৮৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় সাম্রাজ্য। লুই-নেপোলিয়ন আনুষ্ঠানিকভাবে তৃতীয় নেপোলিয়ন ও ফরাসি সম্রাট হিসেবে সিংহাসনে বসেন। এর মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় রিপাবলিকের মৃত্যু ঘটে। ফ্রান্সকে অপেক্ষা করতে হয় পরবর্তী রিপাবলিকের জন্য। ফ্রান্স বর্তমানে পঞ্চম রিপাবলিকের সময় পার করছে। এর আগে অন্তত চার দফা রিপাবলিকের উত্থান ও পতন ঘটেছে দেশটিতে।

: লেখক

Tags: